জাপানে জুলাইয়ে ভ্রমণার্থীদের রাত্রিযাপন কমেছে

জাপানের অর্থনীতিতে পর্যটন খাতের বড় ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু খাতটিতে মন্দার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

জাপানের অর্থনীতিতে পর্যটন খাতের বড় ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু খাতটিতে মন্দার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। দেশটির পর্যটন সংস্থা জাপান ট্যুরিজম এজেন্সির প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, গত জুলাইয়ে হোটেল ও অতিথিশালাসহ স্থানীয় আবাসনে অতিথিদের কাটানো রাতের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। টানা দ্বিতীয় মাসে এ ধরনের পতন অর্থনীতির স্থবিরতার দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর নিক্কেই এশিয়া।

জুলাইয়ে জাপানের হোটেল ও অতিথিশালায় মোট ৫ কোটি ৬৪ লাখ ভ্রমণার্থীদের রাত্রিযাপন রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে বিদেশী পর্যটকদের রাত্রিযাপন ছিল ১ কোটি ৪২ লাখ, যা আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ কম।

জুনেও বিদেশী পর্যটক কমেছিল। যদিও পরে পরিসংখ্যানে সামান্য সংশোধন করে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বাড়ানো হয়, তবু তা দুর্বল ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েনের বিনিময় হার বাড়ায় বিদেশীদের জন্য জাপান ভ্রমণ ব্যয়বহুল হয়ে পড়ছে।

এ পরিস্থিতির প্রভাব দেশটির খুচরা বিক্রিতেও পড়েছে। জুলাইয়ে ডিপার্টমেন্ট স্টোরগুলোর করমুক্ত বিক্রি কমেছে ৩৬ দশমিক ৩ শতাংশ, যা টানা পঞ্চম মাসের মতো পতন।

দাইওয়া সিকিউরিটিজের প্রধান অর্থনীতিবিদ তোরু সুহিরো বলেন, ‘‌স্বল্প সময়ে একজন পর্যটক একাধিকবার জাপান ভ্রমণ করেন না। তাই ধারণা করা হচ্ছে, বিদেশী পর্যটনের প্রবাহ শীর্ষে পৌঁছে গেছে এবং সামনের দিনগুলোয় চাহিদা দুর্বল থাকবে।’

অন্যদিকে দেশী পর্যটকরাও কম ভ্রমণ করছেন। জুলাইয়ে জাপানিদের কাটানো রাতের সংখ্যা ৪ কোটি ২১ লাখ, যা আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ১ শতাংশ কম। টানা সাত মাস ধরে দেশীয় পর্যটন খাত সংকুচিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভ্রমণ ব্যয়কে ঐচ্ছিক খরচ ধরা হয়, যা দাম বাড়লে সহজেই কমে যায়। ফলে দেশীয় পর্যটনের মন্দা এবং বিদেশী পর্যটনের গতি হ্রাস—দুটো মিলিয়েই জাপানের অর্থনীতির সামগ্রিক স্থবিরতা আরো প্রকট হয়ে উঠছে।

আরও